সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদ সামনে রেখে কর্মব্যস্ত নরসিংদীর কামারপল্লি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নরসিংদীর বিভিন্ন কামারপল্লিতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বছরের অধিকাংশ সময় তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা।

আগুনের চুলার তাপ, হাতুড়ির আঘাত আর গলিত লোহা পেটানোর শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন কামারশালা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি, কুড়ালসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরিতে এখন দম ফেলারও সময় নেই তাদের।

জেলার সদর, মাধবদী, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবিরাম কাজ করছেন কারিগররা। অনেকেই অর্ডারের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। কেউ পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিচ্ছেন, আবার কেউ নতুন করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন।

কামার শিল্পীরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়। বছরের অন্য সময় কৃষিকাজের সরঞ্জাম, ঘরের প্রয়োজনীয় লোহার জিনিসপত্র এবং টুকটাক মেরামতের কাজ করলেও ঈদের মৌসুমে তাদের মূল আয়ের উৎস হয়ে ওঠে কোরবানির সরঞ্জাম তৈরি।

নরসিংদী শহরের কামারশালায় কর্মরত কারিগর গৌরাঙ্গ কর্মকার বলেন, সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদের আগে এক মাস প্রচুর কাজের চাপ থাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। অনেক সময় রাত জেগেও অর্ডারের কাজ শেষ করতে হয়।

আরেক কারিগর রবিন কর্মকার বলেন, আগে কয়লা ও লোহার দাম অনেক কম ছিল। এখন সবকিছুর দাম বেড়েছে। শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। তাই আগের তুলনায় যন্ত্রপাতির দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু খরচ বাড়ার কারণে লাভ খুব বেশি থাকে না।

কামারশালাগুলো ঘুরে দেখা যায়, এবারের ঈদ মৌসুমে বিভিন্ন সরঞ্জামের দামও কিছুটা বেড়েছে। ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের ছুরি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় দা ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, চাপাতি ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, বঁটি ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং কুড়াল ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে নেওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ২০০ টাকা, যা আকার ও কাজের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় চাপাতি, বঁটি, কুড়াল এবং পশু জবাইয়ের বিশেষ দা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। আগুনে লোহা গরম করে কয়েক দফা হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন সরঞ্জাম। এরপর দেওয়া হচ্ছে ধার ও পালিশ।

ক্রেতারা বলছেন, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো সরঞ্জামের বিকল্প নেই। তাই অনেকে বাজারের তৈরি পণ্যের পরিবর্তে সরাসরি কামারশালা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন।

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই কামারশালা থেকে দা আর ছুরি বানিয়ে নিই। এখানকার তৈরি জিনিস ভালো হয় এবং অনেক দিন ব্যবহার করা যায়। বাজার থেকে কিনলে তেমন টেকসই হয় না।

আরেক ক্রেতা হিমেল বলেন, পুরোনো দা-ছুরিতে শান দেওয়ার জন্য এসেছি। ঈদের সময় ভালো ধার না থাকলে কাজ করতে সমস্যা হয়। আর এবার মনে হচ্ছে সব কিছুর দাম একটু বেশি।

তবে কাজের চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো লাভ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা। তাদের অভিযোগ, লোহা, কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকের সংকটও রয়েছে। অনেক তরুণ এখন এই পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প টিকে থাকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নরসিংদী বিসিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম খান বলেন, কামার শিল্প একটি আদি পেশা। এর মান উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কারিগরদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদানও দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নরসিংদী সদরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং বর্তমানে পর্যায়ক্রমে বেলাবো, রায়পুরা ও শিবপুর উপজেলায়ও এর আওতা বাড়ানো হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: